Posts

Ondine's curse আর মাথা নষ্টের আলাপ

  গ্রীক মিথোলজিতে একটা টার্ম আছে- ondine's curse, সেখানে অনডাইন নামের এক নিম্ফ এক মানুষের সাথে বিয়ে করার জন্য নিজের নিম্ফ বা জলপরীর সত্ত্বা বিসর্জন দিয়ে মানুষ হয়ে যায়। কিন্তু এক সময় দেখে তার প্রিয় মানুষটাই আরেক মেয়ের সাথে সম্পর্কে জড়িয়ে গেছে। তখন ওই নিম্ফ অনডাইন তার স্বামীকে অভিশাপ দেয় যে আমাদের সাধারণ মানুষদের শ্বাস নেওয়ার কাজটা যেরকম অচেতন অটোনমিক বা নিজে নিজে তৈরি সিস্টেমে চলে তেমনটা আর হবে না। তার অভিশপ্ত স্বামীকে এখন থেকে প্রতিটা শ্বাস সচেতন সিস্টেমে, বুঝে বুঝে নিতে হবে- তার জীবনে কোন ঘুম আর সুকুন থাকবে না, ২৪ ঘন্টার সচেতনতার জীবন হবে তার। ভয়াবহ এক অভিশাপ। মেডিকেল সায়েন্সের খুব ভয়াবহ একটা রোগ- central hypoventilation system কে এই ভয়াবহ অভিশাপের সাথে তুলনা দেওয়া হয়। ব্রেইনে এনসেফালাইটিস, টিউমার বা অন্য কিছু কারণে খুব রেয়ারলি এই সমস্যাটা হয়। ব্রেইনের অটোমেটিক শ্বাস নেওয়ার ক্ষমতা চলে যায়, নিজে নিজে বুক ফুলিয়ে শ্বাস নেওয়ার মত শ্বাস নিতে হয়। আর সেটা যেহেতু সবসময় সম্ভব হয় না তাই তাদেরকে আল্টিমেটলি লাংস এর নিজস্ব সমস্যা ছাড়াই মেকানিকাল ভেন্টিলেশন সিস্টেমে। এই "সার্বক্ষণিক সচেতন...

সংস্কৃতির বিকাশ ও মানবিক অনন্যতার উদযাপন

Image
এক ছোট ভাইয়ের সাথে কথা বলতেছিলাম বাংলাদেশের বিজ্ঞান শিক্ষা চিন্তার বিকাশ নিয়ে, সে তখন একটা চমৎকার প্রশ্ন করছিলো- "ভাই আমরা এই কোনার একটা দেশে বইসা বিজ্ঞান টিজ্ঞান নিয়া গবেষণা কইরা কি করমু, আমেরিকা, রাশিয়া, জার্মানি, চায়না জাপান ওরা তো গবেষণা করতেছে, ওরা আবিষ্কার করুক আমরা পয়সা দিয়া ওইসব আবিষ্কার কিনা নিয়া আসমু। " করোনার ভ্যাকসিনের ক্ষেত্রেই এইটা প্রমাণিত হইলো, এতো পয়সা দিয়া গবেষণা, চিন্তাভাবনা কইরা কি লাভ, পয়সা দিয়ে তো কিনেই আনতেছি। এই প্রশ্নটাকে আরো বিস্তৃত করা যায়। বাংলাদেশে সাহিত্য, কবিতা দর্শন চর্চা কইরাও আসলে কি লাভ? বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এইসব চর্চা তো হচ্ছে, আর এইগুলা ইংরেজিতেও অনুবাদ করা হচ্ছে, আমরা খালি ইংরেজিটা ভালো মত শিখলেই তো চলে। (এই দাবী নিয়ে বইমেলার জন্য আস্ত বইও অলরেডি লিখে ফেলা হইছে)। ব্যাপারটা হচ্ছে, "কেন করা উচিৎ" এই প্রশ্নের উত্তর তো "বোইজ্ঞানিক" উপায়ে দেওয়া সম্ভব না। বিজ্ঞান তো "is" বা কি হয় হচ্ছে এইটাকে খুঁজতে পারে, কিন্তু কি হওয়া উচিৎ বা Ought নিয়ে সে থাকে নিশ্চুপ। কি করা উচিৎ এই প্রশ্নের উত্তর দিতে গেলে আপনা...

প্লেটোর রহস্যময় পাবলিক লেকচার, অ্যাকাডেমিক কালচারের বৈশিষ্ট্য আর বাংলাদেশে বিদ্যমান সার্টিফিকেট ফেটিশিজমের সমস্যা

দার্শনিক প্লেটো তার পৈতৃক সম্পত্তিতে প্রতিষ্ঠিত আর গ্রীক বীর অ্যাকাডেমাসকে উৎসর্গকৃত জমিতে জলপাই গাছের তলায় নিজের ছাত্রদের উদ্দেশ্যে লেকচার দিতেন , এই অ্যাকাডেমাস নাম থেকেই অ্যাকাডেমিয়া শব্দের উৎপত্তি। এখন প্লেটো তার জীবনে শুধুমাত্র একটা লেকচারই পাবলিক অডিয়েন্সের সামনে দিয়েছিলেন , কিন্তু এই লেকচারটাই সম্বন্ধে আমরা সরাসরি কিছু জানতে পারি না। তার ছাত্র অ্যারিস্টটলের ছাত্র অ্যারিস্টোজেনাসের বই হারমোনিকসে এই লেকচারের একটা বিবরণ উঠে এসেছে। কিন্তু এই লেকচারটা এতটাই অদ্ভুত আর রহস্যময় ছিলো যে এই লেকচারটাকে গ্রীক দর্শনের ইতিহাসের অন্যতম ধাঁধাঁ হিসাবে বিবেচনা করা হয়। এই লেকচারটার শিরোনাম ছিলো " Lecture on good " । যতটুকু জানা যায় এই লেকচারের ব্যাপারে বেশ ভালো রকমের প্রচারণা চালানো হয়েছিলো আর সর্বস্তরের মানুষ এতে অংশগ্রহণ করছিলো। অংশগ্রহণকারী জনতার একটা ধারণা ছিলো যে এই লেকচারে অংশগ্রহণ করলে "ভালো বলতে কি বোঝায়" এইটা সম্পর্কে জানতে পারবে আর এই জ্ঞান তাদের জীবন যাপনে সাহায্য করবে। কিন্তু বেরসিক প্লেটো এই লেকচারে আলোচনা শুরু করলো জ্যামিতি নিয়া , তার সাথে জোড়া দিলো অ্যাস্ট্...